রাজবাড়ীর পাংশায় ভেজাল তেল বাজারজাতের খবর সংগ্রহে গিয়ে চার সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘থ্রী স্টার অয়েল মিল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নামি-দামি ব্রান্ডের মোড়ক নকল করে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল তেল বোতলজাত করে আসছে। পাংশা পৌরসভার পুরাতন বাজার (দর্গাতলা) এলাকার দেলোয়ার হোসেন দুলাল নামে এক ব্যক্তির বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের তেল ও কেমিক্যাল মিশিয়ে অনুমোদন বিহীন বোতলজাত করা সহ ভেজাল নারিকেল ও সরিষার তেল তৈরী করা হচ্ছে। বোতলজাত করা তেল বাজারে বিক্রি করছেন দুলাল নিজেই। বোতলের গায়ে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নকল মোড়ক- এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহে গেলে তেল বোতলজাত করা ঘরটি তালাবদ্ধ করে রাখতে দেখা যায়। ওইসময় দেলোয়ার হোসেন দুলালকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাড়িতে থাকা অন্যান্য সদস্যের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে কারখানার কর্মচারীসহ মালিক পক্ষের লোকেরা সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ও নানা হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংবাদকর্মীরা চলে আসেন।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক বাংলা পত্রিকার পাংশা উপজেলা প্রতিনিধি এস.কে পাল সমীর, দৈনিক খোলাকাগজ পত্রিকার পাংশা প্রতিনিধি ও জনকণ্ঠ পত্রিকার কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার আকাশ মাহমুদ, দৈনিক কালবেলা পত্রিকার কালুখালী প্রতিনিধি হামজা শেখ এবং দৈনিক চিত্র পত্রিকার পাংশা প্রতিনিধি উজ্জ্বল হোসেন।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পাংশা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে মুঠোফোনে বলেন, যা হয়েছে সেটার জন্য আমি দুঃখিত। ওরা বুঝতে পারেনি। আসলে এখন আর তেল বানানো হয় না।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভেজাল তেল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে এ ধরনের কারখানা। এসব তেল খাওয়ার ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযান ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া ভেজাল কারখানা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীর একজন অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের হেনস্তা হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আবু দারদা বলেন, বিষয়টি আমি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখছি। যত দ্রুত সম্ভব তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।