রাজবাড়ীতে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশ ও জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী কার্যালয়ের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা করেন সুহৃদরা। রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি কমল কান্তি সরকারের সভাপতিত্বে শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়ন, খাদ্যের নিরাপত্তা, খাদ্য ভেজাল রোধ, শিশু খাদ্যের নিরাপত্তা ও সচেতনতা মূলক আলোচনা করা হয়। এসময় সুহৃদদের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী কার্যালয়ের সহকারী উপপরিচালক কাজী রকিবুল হাসান।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রাজবাড়ীর সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজবাড়ী শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, সুহৃদ উপদেষ্টা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, সুহৃদ উপদেষ্টা পার্থ প্রতীম দাশ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি কবি সালাম তাসির, সুহৃদ উপদেষ্টা রঞ্জন মাহমুদ, উপদেষ্টা ফকীর জাহিদুল ইসলাম রুমন, কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, রাজবাড়ী সুহদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল রবি প্রমুখ।
রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রব সুমন প্রশ্ন করেন, আমরা বাজার থেকে মিষ্টি ক্রয় করার সময় খেয়াল করি মিষ্টির প্যাকেটের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে যা মিষ্টির দামের সাথে যুক্ত করা হয়। এই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার আইন কি বলে। এই প্রশ্নের উত্তরে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী কার্যালয়ের সহকারী উপপরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বলেন মিষ্টির ওজনের সাথে প্যাকেটের ওজন এক করা যাবে না। প্যাকেটের ওজন বাদ দিয়ে মিষ্টির ওজন দিতে হবে। এবং প্রত্যেক দোকানে মিষ্টির প্যাকেটের ওজন লিপিবদ্ধ করা থাকবে যা বাদ দিয়ে মিষ্টির ওজন করতে হবে। এই বিষয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত মনিটরিং করে থাকে। কোন ব্যবসায়ী যদি এমন করে থাকে আমাদের কাছে অভিযোগ দিবেন আপনারা আমরা সে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।
রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা রাজবাড়ীর সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের ছোট ছোট শিশুরা তাদের স্কুলের সামনে থেকে বিভিন্ন রকমের মুখরোচক খাবার কিনে থাকে। যেমন কৃত্রিম লিচু সহ আরো অনেক কিছু। যা স্বাস্থ্যার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার আইন কি বলে? সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন আজকের আলোচনর বিষয়টি খুবই দারুণ। এর মাধ্যমে সুহৃদরা খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হবে ও ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এমন সচেতনতা মূলক সেমিনার ছোট বাচ্চাদের স্কুলে করার আহবান জানান তিনি। যার মাধ্যমে বাচ্চারা জানতে পারবে তাদের কোন সব খাদ্য খেতে হবে এং কোন খাদ্য ক্ষতিকর।
মতবিনিময় সভায় সুহৃদ আনোয়ার হোসেন, অজয় দাস তালুকদার সহ আরও অনেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন যার যথাযথ উত্তর ও পরামর্শ দেন ভোক্তা রাজবাড়ীর সহকারী উপপরিচালক কাজী রকিবুল হাসান। তিনি বলেন আমাদের ছোট অধিদপ্তর। আমরা অল্প লোকবল নিয়ে পুরো জেলার ভোক্তা অধিকার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। আপনারা সচেতন মানুষ। আপনারা আমাদের লিখিত অভিযোগ বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ দিবেন অনিয়ম নিয়ে। আমরা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো। আমরা নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ভোক্তা অধিকার বিষয় নিয়ে সচেতনতা মূলক সেমিনার করে থাকি। আমাদের সকল ভোক্তার যার যার জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমকালের রাজবাড়ী প্রতিনিধি সৌমিত্র শীল চন্দন।