রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

টাকার অভাবে থেমে আছে শিশু সামিয়ার চিকিৎসা॥ সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
  • Update Time : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১২৮ Time View

মাত্র ছয় বছর বয়সী সামিয়া আক্তারের শরীরে বাসা বেঁধেছে জটিল রোগ। দুরারোগ্য ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। চিকিৎসকরা সামিয়াকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। তার জন্য প্রয়োজন প্রয়োজন অন্ততঃ পাঁচ লাখ টাকার। এতো টাকা সংস্থান করা সামিয়ার দরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে অসম্ভব। সামিয়া রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সাইফুল সর্দার ও শিল্পী আক্তার দম্পত্তির মেয়ে। সাইফুল সর্দার হাটে হটে মাছ বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করেন।

সামিয়ার পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইফুল সর্দারের দুই ছেলে এক মেয়ে। সবার ছোট সামিয়া। দুই ছেলের পর মেয়ের জন্ম হওয়ায় পরিবারের সকলের আদরের সামিয়া। সবার মত সামিয়াও ছুটে বেড়াত। তার চঞ্চলতায় সবার মধ্যে ছুঁয়ে যেত আনন্দের ঢেউ। চার মাস আগে জ¦রে আক্রান্ত হয় সামিয়া। জ¦র না কমায় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও তার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক জানান, সামিয়ার মাথায় ব্রেইন টিউমার। যার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অনেক টাকার। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তাকে নিয়ে আসা হয় বাড়িতে।

‎সামিয়ার মা শিল্পী আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার মেয়ে সামিয়া সুস্থ ছিল। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে যায় সে। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে কথা বলতে পারে না। হাঁটতেও পারে না। অভাবের সংসারে সংসার চালানোই দায়। একমাত্র মেয়েকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না টাকার অভাবে। মা হয়ে সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। মেয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান তিনি। বলেন, কেউ একটু পাশে দাঁড়ালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

‎সামিয়ার নানী ভানু বেগম জানান, অভাবের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সুখেই তাদের দিন কাটছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সামিয়া অসুস্থ হয়ে সুখের সংসারে এখন দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। সামিয়ার বাবা সামান্য মাছের ব্যবসা করে। সামিয়ার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। সহায় সম্বল বলতে তিন শতক জমির উপর বসতঘরটি। সামিয়া অসুস্থ হওয়ার পর ফরিদপুরে ১২ দিন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ দিন ছিল। চিকিৎসকরা সামিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা ফরিদপুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সঞ্চিত সব অর্থ খরচ হয়ে গেছে। তিনি নিজেও সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন ওদের সাহায্য করতে। এখন বাড়িতে রেখেই চলছে সামিয়ার চিকিৎসা। সপ্তাহে দুই হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়। তাদের বিক্রি করার মত কিছুই নেই। যা দিয়ে সামিয়ার চিকিৎসা করাবেন। দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে সামিয়ার। বলেন, আমার নাতনি আবার সুস্থ হয়ে খেলে বেড়াবে সে স্বপ্ন দেখেন তিনি।

‎কালুখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ছয়টি দুরারোগ্য রোগের জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া যায়। সামিয়াকে সহযোগিতার জন্য তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন।

সামিয়াকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, কালুখালী শাখার হিসাব নং- ২০০০১৮৯৮৩৪৪৯ (মা মোছা. শিল্পী খাতুন। বিকাশ/নগদ ০১৩১৩-২৫৩৫৯৬।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 daily Amader Rajbari
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto