রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

মায়ের কিডনিতে ছেলের নতুন জীবন

রতন মাহমুদ, পাংশা:
  • Update Time : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৭ Time View

অন্ধকার ঘরে অসুস্থ ছেলেকে দেখে প্রতিদিনই ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। ছেলের জীবন সঙ্কটাপন্ন। একসময় চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন “আর দেরি করলে বাঁচানো সম্ভব নয়।” কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। কিন্তু লাখো টাকার ব্যয় আর একটি সুস্থ কিডনির খোঁজ। সবকিছুই তখন এই দরিদ্র পরিবারের কাছে অসম্ভব স্বপ্নের মতো।

একদিন নিজের শরীরকেই সমাধান হিসেবে সামনে আনলেন তিনি। ছেলেকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ঝুঁকি যত বড়ই হোক, সন্তানের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতেও পিছপা হলেন না।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুছিদাহ গ্রামের মেধাবী ছাত্র নায়েব আলী ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। শুরুতে নিয়মিত চিকিৎসা চললেও ধীরে ধীরে তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যায়। প্রতিদিন শরীর ভেঙে পড়ছিল, চোখের সামনে নিভে যাচ্ছিল এক তরুণ জীবনের স্বপ্ন।

অভাবী পরিবার চিকিৎসার পেছনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে অপরিচিত মানুষের দ্বারেও সহায়তার আবেদন জানায় পরিবার। কিন্তু কোনো কিডনি পাওয়া যাচ্ছিল না। একসময় মনে হচ্ছিল মৃত্যু শুধু সময়ের অপেক্ষা।

অবশেষে এগিয়ে আসেন নায়েব আলীর জন্মদাত্রী মা। চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য ঝুঁকি বোঝালেও তার মন অটল থাকে। নিজের জীবন ও ভবিষ্যতের পরোয়া না করে সন্তানের জন্য নিজের একটি কিডনি দান করেন তিনি।

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডিইউ (ঈকউট) হাসপাতালে গত মঙ্গলবার রাতে সম্পন্ন হয় জটিল অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকের দক্ষ হাতে প্রতিস্থাপিত হয় মায়ের কিডনি। অবশেষে মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপন করে নতুন জীবনের স্বাদ পেলেন নায়েব আলী। বর্তমানে মা এবং সন্তান দুজনেই সিকেডিইউ (ঈকউট) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেন নায়েব এর ভাই রাশিদুল ইসলাম। নায়েব পাট্টা ইউপির মুছিদাহ গ্রামের আবু জাফর মন্ডলের বড় ছেলে। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতিবেশীসহ সর্বস্তরের মানুষ মায়ের ত্যাগের প্রশংসা করেছেন।

বলছেন, এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত। মা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে ছেলেকে নতুন জীবন দিলেন। নায়েব আলীর মা শুধু নিজের ছেলেকেই নয়, পুরো সমাজকে দেখিয়ে দিলেন মাতৃত্বের আসল রূপ। অর্থ-সম্পদ, কষ্ট বা ঝুঁকি কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয় সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022 daily Amader Rajbari
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto kaskustoto