
মাটিখেকো, মাদক কারবারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাংসদ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় নেই। মাদকমুক্ত করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারকে করণীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে উপজেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি উপজেলা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দপ্তরের সমস্যার কথা শোনেন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো জায়গা আমাদের জেলায় হবে না। তারা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি জানি চাঁদাবাজ ও মাদককারীদের সাথে প্রশাসনও জড়িত রয়েছে, এমনকি আমার দলের লোকও জড়িত আছে। তাই আমি বলছি আপনারা সতর্ক হয়ে যান। কোন প্রকার নেক্কারজনক কাজ ও কথাবার্তা আমি যেন না শুনি।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমি বাংলাদেশসহ রাজবাড়ীতে কাজ করে বদলে দিতে চাই। নদীতে বালু কাটা, মাটি কাটা সব অবৈধ কাজ বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তিনি কঠোর অবস্থানে গিয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে আহবান জানান। গোয়ালন্দে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে, শিক্ষক সংকট নিরাসন করতে শিক্ষকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে তিনি সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। গোয়ালন্দে যে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে উন্নত চিকিৎসা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও চিকিৎসকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে কোন দালালদের জায়গা হবে না। হাসপাতালে সকল রোগী যেন ভালোমতো চিকিৎসা পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা সকল রাস্তা ঘাট উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। রাজবাড়ীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজবাড়ী জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, নৌবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট এবং রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের জেলার মানুষের জন্য নির্বাচনী কমিটমেন্ট ছিল পদ্মা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, এ ব্যাপারে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আমরা কয়েকটি সেমিনার করেছি। সেই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে অবহিত করি। সেখানে চারটি মন্ত্রণালয়ে সভা হয়। সেই সভায় প্লানিং হয়ে বিগত সরকারের সময় পদ্মা ব্যারেজের বিষয়টি প্রি একনেক হিসেবে পাশ হয়ে আছে। আগামী ৮ তারিখ একনেকের সভা আছে। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই এটি পাশ হবে। পাশাপাশি যদি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয় তাহলে, এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই এলাকার প্রত্যেকটি বালিকণা সোনায় পরিণত হবে। এরকম একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে আমাদের অনেকগুলো দাবি কিন্তু সামনে এসেছে। পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি এই অঞ্চলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। আমাদের রেলে দেশের মধ্যে একটি বড় ওয়ার্কশপ হওয়ার কথা ছিল এখন সেটি থেমে আছে। একটি ক্যান্টনমেন্ট করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি আর হয়নি। ২০০১ সালে এমপি থাকাকালীন একটি আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণের বিষয়ে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। আমাদের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকা- করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. সাহিদুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্টের রাজবাড়ী জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম দুলাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. মমিনুল ইসলাম সহ উপজেলা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপজেলা এসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন তাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর বিকালে সমন্বয় সভা শেষে শত শত দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।